April 21, 2021, 5:04 pm


দেশজুড়ে সরবরাহ হচ্ছে নোয়াখালীর তরমুজ

অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর নোয়াখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে নোয়াখালীর তরমুজ যাচ্ছে সারাদেশসহ দেশের বাইরে।

এ বছর জেলার মোট ৯টি উপজেলার সকল উপজেলায়ই কমবেশি তরমুজের চাষ হলেও সদর এবং সুবর্ণচর উপজেলায় তরমুজ চাষের হার লক্ষণীয়। এ দুই উপজেলায় এবার বৈরীমুক্ত আবহাওয়া বিরাজ করায় এবং বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বীজ এবং গাছের কোনরূপ ক্ষতি হয় নাই বিধায় তরমুজের ফলনও হয়েছে অন্যান্য সময়ের চেয়ে প্রায় তিন-চার গুণ বেশি।

সুবর্ণচর উপজেলার চরকাজী মোখলেছ, চরবৈশাখী এবং চর নোমান ও সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের পূর্ব শূল্যকিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ শুধু তরমুজ আর তরমুজ। পাশাপাশি দেখা মিলে কৃষকের কাঁধে এবং মাথায় বস্তা যার ভেতর তরমুজ। যতদূর চোখ যায় ততদূর দেখা যায় তরমুজ বহনের বিরামহীন এই স্রোতধারা।

মূলত ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে রাস্তার উপর এনে ট্রাকে জড় করছে কৃষকেরা। সেখান থেকে পাইকাররা গুনে বুঝে নিচ্ছে এলাকার বাহিরের বাজার এবং অন্যান্য জেলায় বিক্রি করার জন্য। প্রতিটি কৃষকের চোখে-মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। খুশিতে তারা সারাদিন পরিশ্রম করেও কোনো ক্লান্তি অনুভব করছে না। শুধু কৃষক নিজে একাই নয়, তার পরিবার পরিজন সকলেই খুশিতে আত্মহারা। কারণ গত দু-বছরের লোকসান পুষিয়ে এ বছর তারা তরমুজ বিক্রি করে ভালো লাভ করেছেন।

চর কাজী মোখলেছের তরমুজ চাষী ইব্রাহীম খলিল জানান, এ বছর প্রায় দেড় হাজার শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় দশ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন প্রায় পঁচিশ লাখ টাকার তরমুজ। আরো বিক্রি করতে পারবেন প্রায় ৬/৭ লাখ টাকার তরমুজ। খরচের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি টাকা তরমুজ বিক্রি করতে পারছে বলে খুঁশিতে সে আত্মহারা।

এ সময়ে আরো কথা হয় তরমুজ চাষী আবদুল কাদের এবং রবিউল হোসেনের সাথে। তারা চাষী ইব্রাহীম থেকে কম পরিমাণ তরমুজ চাষ করলেও এ বছরের তরমুজ বিক্রি করে খরচের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি টাকা পাচ্ছে। তবে তারা জানান, সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশার কারণে পাইকাররা পরিবহন খরচ বেশি দিচ্ছে বলে তাদেরকে এ অজুহাতে তরমুজের মূল্য কম দিচ্ছে। নয়তো তারা অধিক লাভবান হতো।

এবারের তরমুজ চাষ এবং ফলনের বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশরেফুল হাসান চন্দন নিকট বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সদর উপজেলায় প্রায় এবার পাঁচ’শ বিশ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে চাষিরা ২/৩ ধাপে তরমুজ বিক্রি করেছে। আরো ১৫/২০ দিন বৃষ্টি না হলে চাষিরা আরো ২/৩ ধাপে তরমুজ বিক্রি করতে পারবে। যার ফলে গত দুই বার তরমুজ চাষে যারা ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে এবার তারা ক্ষতি পুষিয়ে লাভ করছে এবং করতে পারবে। তবে গত দুই বার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক চাষী এ বছর তরমুজের চাষ না করে বরোধান, সয়াবিন, বাদামসহ ইত্যাদির চাষে মনোনিবেশ করেছে। ধান এবং এসকল পণ্যের বাজার বেশি হওয়ায় তাদেরও লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হারুন জানান, অত্র উপজেলায় প্রায় তেরো’শ নব্বই থেকে চৌদ্দ’শ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করেছে চাষীরা। হেক্টর প্রতি তাদের খরচ হয়েছে নব্বই থেকে এক লক্ষ টাকা। আর বিক্রি হচ্ছে দুই লক্ষ থেকে দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকার তরমুজ। হেক্টর প্রতি গড় লাভ প্রায় এক লক্ষ থেকে এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা। হেক্টর প্রতি উৎপাদন প্রায় ২৫/৩০ মেট্রিক টন।

তরমুজের বাম্পার ফলন নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শহিদুল হক জানান, জেলার মোট নয়টি উপজেলার ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর তরমুজের চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ২৮ থেকে ৩০ টন। সরকারের পক্ষ থেকে চাষীদের সার, বীজ সরবরাহ এবং মাঠ পর্যায়ে মাঠ কর্মীদের যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং অনুকূল আবহাওয়ায় এ বছর জেলায় তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনেকটাই জৈব সার প্রয়োগ ও কীটনাশক মুক্ত হওয়ায় এ বছরের তরমুজ সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যসম্মত বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি এ বছরের তরমুজ উৎপাদন এবং রপ্তানিতে দেশের অর্থনীতিতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে