February 28, 2021, 12:58 am


ওবায়দুল কাদেরকে কটূক্তি, কাদের মির্জার অনশন

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিবারকে ‘রাজাকারের পরিবার’ বলে আখ্যায়িত করেছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লাইভে তিনি এসে এসব কথা বলেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এসব নিয়ে কথা বলা শুরু করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

২৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ক্লিপে নোয়াখালী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘দেশি মানুষ, স্লামালাইকুম। আমি কথা বললেতো মির্জা কাদেরের বিরুদ্ধে কথা বলব না। আমি কথা বলব ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। একটা রাজাকার ফ্যামিলির লোক এই পর্যায়ে আসছে। তার ভাইকে শাসন করতে পারে না। এগুলো নিয়ে আমি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কথা বলব। আমার যদি জেলা কমিটি না আসে তাহলে আমি এটা নিয়ে শুরু করব।’

তবে শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) তার ফেসবুক আইডি ঘুরে দেখা যায়, কোনো এক সময় তিনি লাইভ ভিডিওটি সরিয়ে ফেলেছেন। তবে তার আগেই ফেসবুকে তার বক্তব্যটি ভাইরাল হয়ে যায়।

পরে দুপুরের দিকে আরেকবার লাইভে এসে এমপি একরামুল করিম দাবি করেন, তিনি ওবায়দুল কাদেরকে কিছু বলেননি।

ওবায়দুল কাদেরকে একজন মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যা বলতে চেয়েছি তা আবদুল কাদের মির্জাকে উদ্দেশ করে। কারণ কাদের মির্জার পরিবার মুক্তিযোদ্ধাবিরোধী ফ্যামিলি।

দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বিষয়টি সিনিয়র নেতাদের মাধ্যমে মীমাংসার অনুরোধও জানিয়েছেন নোয়াখালী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী।

 সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিবার নিয়ে কটুক্তি করায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযযোদ্ধা খিজির হায়াত খানের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভার রুপালি চত্বরে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘একরামুল করিম চৌধুরী আমাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের সড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে এখন আমাদের সকলের নেতা ওবায়দুল কাদের কে নিয়ে কটুক্তি করা শুরু করেছে, যা আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন। এই একরামের বিষয়ে সতর্ক করতে গিয়ে আজ আমি মামলার আসামি, আজ আমি সমালোচিত, আজ আমাকে বলা হচ্ছে পাগল। একরামের তৈরী সন্ত্রাসীরা শুধু আমাকে পাগল বলে ক্ষান্ত হয়নি তারা বঙ্গবন্ধুকেও পাগল বলে স্লোগান তুলেছে।’

কেন্দ্রীয় নেতাদের শতর্ক করে তিনি বলেন, সময় থাকতে যদি আগাছা পরিস্কার না করা হয়, সেদিন বেশি দূরে নয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অপবাদ দিতে কুণ্ঠাবোধ করবেনা এই একরাম। তার অন্যায় ও জুলুমে নোয়াখালীর মানুষ আজ অতিষ্ঠ, তার অপরাজনীতির কারনে নোয়াখালীতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আজ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন। অনতিবিলম্বে তাকে নোয়াখালী জেলা কমিটি থেকে বহিষ্কার করার জোর দাবী জানিয়ে তাকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত বসুরহাটের বঙ্গবন্ধু চত্বরে অবস্থান ধর্মঘটের ঘোষনা দেন আবদুল কাদের মির্জা।

এসময় উপজেলা সভাপতি খিজির হায়াত খান বলেন, ‘এমপি একরাম নেশা করে মাতাল হয়ে রাতে বলেছে ওবায়দুল কাদেরের ফ্যামিলি রাজাকারের ফ্যামিলি, সকালে বলেছে আমি (একারাম) ওবায়দুল কাদেরকে বলিনি, বলেছি কাদের মির্জার ফ্যামিলিকে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে কাদের মির্জা আর ওবায়দুল কাদেরের ফ্যামিলির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? এমপি একরাম যে নেশা করে মাতাল হয়ে পাগলামী করছে তা জনগনের কাছে স্পষ্ট।’ এরকম মাতাল, নেশাগ্রস্থ নেতার প্রয়োজন নোয়াখালীতে নেই বলে দাবী করেন তিনি।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নূর নবী চৌধুরী। পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজম পাশা চৌধুরী রুমেল। উপজেলা যুব লীগের সভাপতি গোলাম সরওয়ার, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নিজাম উদ্দীন মুন্না প্রমূখ।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে