January 23, 2021, 12:05 pm


সেতু মন্ত্রীর ভাই আবদুল কাদের মির্জার সমর্থকদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি

এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা দলীয় নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে বসুরহাট মুজিব চত্বরে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লেও বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত তার অবস্থানে অনড় থেকে সেখানে অবস্থান করেন।

পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনম সেলিম চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে আবদুল কাদের মির্জা ও তার অনুসারীদের অনুরোধ করলে তারা সেখান থেকে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি সংক্রান্ত এক সভা সকাল ১০ টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসক খোরশেদ আলম খান, পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার রবিউল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা নির্বাচনে তার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ নির্বাচনী আচরনবিধি ভঙ্গের নানা অভিযোগ তোলেন। এ ছাড়া নির্বাচন বানচাল করার জন্য আশপাশ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র এলাকায় কতিপয় ব্যক্তির যোগসাজসে আনার অভিযোগ করেন। অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে কী কী সমস্যা বিরাজমান তা নিয়ে প্রায় ২০ মিনিট তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেন। এ ছাড়া এ সব অপকর্মের পিছনে যারা জড়িত সভায় তাদের নাম প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুনির্দিষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন। এ সময় আবদুল কাদের মির্জা উত্তেজিত হয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তার সমর্থকরা নানা ধরণের আপত্তিকর স্লোগান দেন। এ সময় তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার দাবি করেন।

এদিকে সমাবেশে আবদুল কাদের মির্জা শান্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভাকে আশান্ত করার পিছনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী, ফেনীর সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলসহ কতিপয় ব্যক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ ছাড়া তাদের যোগসাজসে আগামী ১৬ জানুয়ারি বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচন বানচাল করে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন। এর আগে তিনি সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা দেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত, সাধারণ সম্পাদক নূর নবী চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আজম পাশা রুমেলসহ স্থানীয় নেতা কর্মীরা।

পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনম সেলিম চৌধুরী বিক্ষোভ সমাবেশ গিয়ে তার আনা অভিযোগগুলো দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান বেলায়েতের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান জানান, মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা নানা বিষয় নিয়ে প্রায় ২০ মিনিট টানা বক্তব্য দেন। পরে তিনি রাগ করে সভাস্থল ত্যাগ করেন। আমরা তাকে বার বার অনুরোধ করার পরও তিনি শোনেনি। পরে তিনিও তার অনুসারিরা বসুরহাট জিরো পয়েন্টে বঙ্গবন্ধু চত্বরে জড়ো হন। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন দেয়। শহরে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। পরে আবদুল কাদের মির্জা সেখানে শুয়ে পড়লে তারা সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, কী কারণে আবদুল কাদের মির্জা তার বিরুদ্ধে নানা ধরণের আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন তা তার জানা নেই।

তিনি বলেন, ‘দলীয় বিষয় কারো কোনো বক্তব্য থাকলে তা দলীয় ফোরামে এসে বলা ভালো।’

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে