September 28, 2020, 6:16 am


নোয়াখালীতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দূষিত রক্ত বিক্রি

 নোয়াখালী:

 ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের দেয়ালে দেয়ালে বিজ্ঞপ্তি‘জরুরি রক্তের প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন।’ মোবাইল নম্বর দিয়ে বলা হয়েছে, ‘রক্তের গ্রুপ নিয়ে আসুন। রক্তের বিনিময়ে রক্ত দেওয়া হয়।’

তবে সূত্রে জানা গেছে, সেখানকার বেশিরভাগ রক্তেই রয়েছে ভেজাল। চলছে রক্ত নিয়ে ভয়ংকর কারবার। এছাড়া সুস্থতার আশায় ব্লাডব্যাংক থেকে কেনা রক্তে রোগীরা বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন মারাত্মক সব ভাইরাস। এ রক্তের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ রোগজীবাণু। বাড়ছে মারণব্যাধি এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও।

অপরদিকে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ দেশজুড়ে রক্ত পরীক্ষা আর নিরাপদ রক্তের জোগান নিশ্চিত করতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেশাদার রক্তদাতাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা রক্তে মিলছে বিভিন্ন মারণব্যাধি ভাইরাস। এসবের মধ্যে রয়েছে হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি (এইডস), ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, এনিমিয়াসহ নানা রোগের জীবাণু। তবে রোগীর স্বজনদের রক্ত এ ক্ষেত্রে অনেকটা নিরাপদ বলে জানিয়েছেন তারা।

তবে স্থানীয়দের আশা দেখাচ্ছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর সম্মিলিত সংস্থা ‘ব্লাড হান্টার’। বিনা মূল্যে অসচ্ছল ও ব্যাধিগ্রস্ত মানুষের পাশে রক্ত দিতে হাজির হচ্ছেন এর সদস্যরা। আবার তাদের দেওয়া রক্ত অনেকটাই জীবাণুমুক্ত বলে মনে করছেন রোগীরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্লাডব্যাংকগুলো থেকে সংগৃহীত রক্তের নমুনায় হেপাটাইটিস বি ও সি, সিফিলিস ও এইডসের জীবাণু পাওয়া গেছে। এর তথ্যানুযায়ী, পরীক্ষা করা রক্তের মধ্যে ৮৭ ভাগ ব্যাগের রক্তেই ছিল হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। বাকি ব্যাগগুলোর মধ্যে হেপাটাইটিস সি, সিফিলিস ও এইচআইভি পাওয়া গেছে, যা রক্ত পরিসঞ্চালনের ক্ষেত্রে বেশ উদ্বেগের বিষয়।

নোয়াখালী সরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটিতে প্রতিদিনই রক্তের প্রয়োজন হয়। স্ক্রিনিং করে প্রতিদিনই পাঁচ-ছয় ব্যাগ অনিরাপদ রক্ত পাওয়া যায়। এর ব্যবহার আশঙ্কাজনক। স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী সংগঠন সন্ধানীর তথ্যানুযায়ী, দেশের পেশাদার রক্তদাতাদের বেশিরভাগই মাদকাসক্ত। তাদের মধ্যে অনেকের রয়েছে এইচআইভির জীবাণু।

সংস্থাটির তথ্যমতে, প্যাথেডিন নামক মাদক নিতে মাদকাসক্তরা একে অপরের সুই ব্যবহার করে, যার কারণে রক্তে হেপাটাইটিস বি, সি এবং এইডস-জাতীয় রোগজীবাণুর সংক্রমণ ঘটে। জানা গেছে, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তারা প্রতিনিয়ত রক্ত বিক্রি করে। আর তাদের ক্রেতা হচ্ছে জেলার সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের দালাল।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিরাপদ রক্তের জন্য কোনো রক্তদাতাকে কমপক্ষে ভয়াবহ পাঁচটি রক্তবাহিত ঘাতক রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নিতে হয়। এগুলো হলো হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি বা এইডস, ম্যালেরিয়া ও সিফিলিসের মতো কঠিন রোগ। সাধারণত সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন ছাড়া রক্ত পরিসঞ্চালন ঠিক নয়। আবার ক্রস ম্যাচ ও স্ক্রিনিং রিপোর্ট ছাড়া রক্ত সঞ্চালন করা যাবে না।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ব্লাড ব্যাংক রয়েছে মাত্র ৪০টি। তবে সারা দেশে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে এর সংখ্যা শতাধিক। অবৈধ ব্লাড ব্যাংক নিয়ম মানছে না। অনেকে শুধু রক্ত বিক্রেতার কাছ থেকে রক্ত কিনে তা প্যাকেটজাত ও ফ্রিজবন্দি করে চড়া দামে বিক্রি করছে।

সূত্রমতে, জরুরি প্রয়োজনে সিংহভাগই পেশাদার রক্তাদাতাদের কাছ থেকে সংগৃহীত রক্তে চলছে রোগীর চিকিৎসা। দেশজুড়ে প্রায় লক্ষাধিক পেশাদার রক্ত বিক্রিকারী রয়েছে।

এসব পেশাদার রক্তদাতাদের একটি বড় অংশই নানা জটিল, কঠিন ও মারণব্যাধিতে আক্রান্ত। তাদের বেশিরভাগই মাদকাসক্ত, হেরোইনসেবী ও নানা ধরনের ভাসমান মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রক্ত রোগীর শরীরে ব্যবহার করা অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর জন্য মৃত্যুর পরোয়ানা। মাদকাসক্ত কিশোর থেকে সব বয়সের নারী-পুরুষ রক্ত বিক্রি করে নিয়মিত গ্রহণ করছে মাদকদ্রব্য। নেশার টানে তারা বিক্রি করছে রক্ত।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈয়দ মহিউদ্দিন আজিম বলেন, ‘রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত তাদেরই সংগ্রহ করতে হয়। এক্ষেত্রে আমরা সরকারিভাবে শুধু গ্রুপিংটাই করে থাকি।’

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে