October 18, 2020, 10:15 am


ফেনী-সোনাপুর ফোর লেনে কাজে ধীরগতি, শেষ প্রকল্পের মেয়াদ : বাড়ছে ভোগান্তি

নোয়াখালী:ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের বেগমগঞ্জ থেকে সোনাপুর পর্যন্ত চার লেনে উন্নিতকরণ প্রকল্পের কাজে ধীরগতির কারণে যানবাহন চালক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের অর্ধেক কাজ দৃশ্যমান হয়নি। এজন্য সড়ক বিভাগ দুষছে জেলা প্রশাসনকে। আর জেলা প্রশাসন দিচ্ছে আইনি জটিলতার দোহাই।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের বেগমগঞ্জ থেকে সোনাপুর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নিতকরণ প্রকল্প শুরু হয়। ৯৬২ কোটি টাকা প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যায় ধরা হয়েছিল। মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ জুন পর্যন্ত।

২০১৯ সালে নতুন করে প্রকল্পটির ব্যায় আরও ৫৩২ কোটি টাকা বাড়িয়ে সময় নির্ধারণ করা হয় ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। এরই মধ্যে প্রকল্প মেয়াদের তিন বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনও অর্ধেক কাজ দৃশ্যমান হয়নি। যে কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খুঁড়ে রাখা অংশে এবং মেকাডম (পাথর বাঁধানো) করা অংশে বর্ষায় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে আছে। এতে যানবহন চালক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এছাড়া প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। শুষ্ক মৌসুমে ধূলাবালিতে চারপাশ একাকার হয়ে থাকে।

সরেজমিনে জেলা শহরের ফকিরপুর, উপজেলা পরিষদের সামনে, বেগমগঞ্জের একলাশপুর, রমজানবিবিসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ঘুরে দেখা যায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। এসব এলাকায় বৃষ্টির পানি এবং কাদায় একাকার হয়ে আছে সড়ক। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ার কারণে সড়কের ওপর থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।

প্রকল্পের নোয়াখালী গেট থেকে সোনাপুর পর্যন্ত অংশে কয়েক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন রয়েছে। এসব জায়গায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রকল্পের শুরুতেই সড়ক বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসনকে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় এ অংশে কোনো কাজই শুরু হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধিরা।

যানবাহন চালকরা জানান, রাস্তার যে অবস্থা তাতে খুব সাবধানে গাড়ি চালাতে হয়। গর্তের ভিতরে গাড়ি নেমে গেলে ওঠাতে খুব সমস্যা হয়। অনেক সময় গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙে বিকল হয়ে যায় গাড়ি। সমস্যায় পড়তে হয় যাত্রীদের।

একাধিক অ‌্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনের সময় বা মুমূর্ষ রোগী নিয়ে দ্রুততার সাথে গাড়ি চালানো যায় না এ রাস্তায়। আধা ঘণ্টার পথ যেতেই কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়।’

নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সামছুদ্দিন জেহান বলেন, ‘দুর্ভাগ্য তিনটি বছর পার হয়ে গেলেও চার লেন প্রকল্পের কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে না। যার কারণে মানুষের দুর্ভোগও শেষ হচ্ছে না। সড়কের অনেক জায়গায় গর্ত করে রাখা হয়েছে। কোথাও দিনের পর দিন নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। আবার কোথাও কাজ শুরুর কোনো লক্ষণই নেই। দ্রুত কাজটা যেন ভালোভাবে শেষ করা হয় এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

নোয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল জানান, প্রকল্পের কাজে ধীরগতির দায় সড়ক বিভাগের নয়। ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া সড়কের যে অংশ রয়েছে সে অংশের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘১৩ কিলোমিটার কাজের মধ্যে সাত কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মাইজদী বাজার থেকে সোনাপুর পর্যন্ত অংশে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য আমরা ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। সেই প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত যাচাই বাচাই কমিটি গ্রহণ করে। এরপর দুই বছর আগে সড়ক বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসকে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসন এখনও পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করতে পারেনি। যে কারণে এ অংশের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।’

ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কথা স্বীকার করে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক খোরশেদ আলম খাঁন বলেন, ‘নোয়াখালীর সবচেয়ে অগ্রাধিকার প্রকল্প হচ্ছে ফোর লেনের কাজটা। এখানে ভূমি অধিগ্রহণের কাজটা ঝুলে আছে, আমরা দ্রুত কাজটা শেষ করব।’

শ্রেণি পরিবর্তন জটিলতার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এ ব্যাপারে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটি খুব দ্রুত তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে