October 18, 2020, 10:13 am


মার্চ থেকে স্থবির দেশের ক্রিকেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

বোর্ড পরিচালক শফিউল আলম নাদেল জানিয়েছেন, বিসিবি থেকে ক্রিকেটারদের জিমের যন্ত্রপাতি বাড়িতে নিতে বলা হয়েছে। তবে সিলেটের ক্রিকেটাররা নিজ উদ্যোগে কেউ চাইলে মাঠে এসেও কাজ করতে পারবেন, ‘আমরা জাতীয় পুলের ক্রিকেটারদের মাঠে আসতে উদ্বুদ্ধ করব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি কেউ ইনডোর ব্যবহার করতে চায়, তাহলে সুযোগ করে দেওয়া হবে।’

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীও জানিয়েছেন, ক্রিকেটাররা নিজ উদ্যোগে চাইলে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিসিবির মাঠ, জিম, ইনডোর ব্যবহার করতে পারবেন। সিলেট আর্ন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামও অনুশীলন করার জন্য পুরোপুরি তৈরি আছে। বিসিবির এই অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ আছে সিলেটে থাকা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। তবে নিজ উদ্যোগে মাঠে গিয়ে অনুশীলনের চিন্তা এখনো তারা কেউ করেননি।

কারো মধ্যে কাজ করছে করোনাভাইরাস নিয়ে ভীতি। মাঠে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও কেউ আবার বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে না বললে আগ বাড়িয়ে উদ্যোক্তা হতে চান না। করোনা বিস্তারের মধ্যে নিজ উদ্যোগে মাঠে অনুশীলন করে সমালোচনায় পড়ার ভয়ও কাজ করছে কারো কারো মধ্যে।

টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্য পেসার আবু জায়েদ রাহি খেলা বন্ধের পরই চলে এসেছিলেন সিলেটের বাসায়। ফিটনেস আর ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততা নিয়েই কাটছে তার সময়। কয়েক দিন আগে তার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে রাহি জানালেন, তিনি বিয়ে করেছিলেন বছর দেড়েক আগে। হাতে ফাঁকা সময় থাকায় ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে ছোট্ট এক অনুষ্ঠান করেছেন কেবল।

বাসায় মোটামুটি সব সুবিধা-সংবলিত জিম বানিয়েছেন। মিরাবাজারে বাসার সামনের রাস্তায় রানিং করেন। বাসায় থাকলে ওজন বেড়ে যাবে এই শঙ্কায় ওজন কমানোর ট্রেনিং করছিলেন। তাতে ওজনও দুই কেজি কমে গেছে, ‘আমি ওজন কমানোর কাজ করছিলাম। এটা করতে গিয়ে দুই কেজি বেশি ওজন কমে গেছে। ২১ জুলাই থেকে আবার ট্রেনিং শুরু করার কথা।’

অর্থাৎ ফিটনেস টেনিং নিয়ে কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু মাঠে যাওয়া, বোলিং করা, স্কিল ট্রেনিং এসব তো ভিন্ন ব্যাপার। রাহি জানালেন, বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললে নিজে নিজে মাঠে যেতে চান না, ‘যে দিন বল করার জন্য অনুমতি দেবে সেদিন মাঠে যাব। এ ছাড়া মাঠে যাব না। বোর্ড আমাদের সুরক্ষা আগে চাইছে। সেটা মাথায় রাখতে হবে। আর স্কিল নিয়ে ভাবছি না কারণ ফিটনেস ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে আবার বোলিং ছন্দ পাব।’

সিলেটের আরেক পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদের বাড়ি শহরতলীর আলমপুরে। সেখানে আছে ফাঁকা মাঠ, খোলামেলা জায়গা। ঘরে জিমের যন্ত্রপাতি আছে তারও। বাড়ির কাছে মাঠ থাকায় রানিংও করছেন। বাড়িতে নেট টাঙিয়ে বোলিংও করছেন এই পেসার। তবু আন্তর্জাতিক মাঠের সুবিধা তো আর সেটা নয়। সেই সুবিধা নিতে চান কি না, জানতে চাইলে খালেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখনো সে রকম দিন-তারিখ ঠিক করিনি। বিসিবি থেকেও আমাদের কিছু বলা হয়নি। কোচ অনলাইনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেছেন, যেহেতু সামনে অনেক দিন খেলা নেই, তাই তাড়াহুড়ো না করতে। বাড়ি থেকেই ফিটনেসটা ঠিক রাখতে। এই মাসটা তাই দেখব।’

 

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে