August 13, 2020, 11:23 am


একটি স্বাধীন দেশ! রাষ্ট্রটা কার!

আকাশ মো. জসিম:
অনেক দিন নিরবে থাকার পর ২০ জুলাই মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক একটি বেসরকারী হাসপাতালের কোবিড চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন করেছেন। এ সময় তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সব সরকারী হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা চলছে। দেশে এখন করোনায় মৃত্যু হার অনেক কম। হয়তোবা বেশি হলেও তিনি অবাক হতেননা!
অথচ, একইদিন সরকারের স¦াস্থ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নোয়াখালীর একজন প্রতাপশালী সাংসদ বলেছেন, স্বাস্থ্যবিভাগ একটি আজব বিভাগ। নোয়াখালীতে ১০টি আইসিইউ দেয়ার কথা বলেও এ পর্যন্ত তা হয়নি।
আবার এর আগে মাননীয় সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা করোনার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। সর্বশেষ বলেছেন, শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখুন।
ইতোমধ্যে মাননীয় কতেক মন্ত্রীর জীবনাচার, কথাবার্তা ও চিন্তাচেতনার পর্যালোচনায় আমরা দেখেছি যে, রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকারের একমাত্র ভরসাই আমাদের জনআস্থার প্রত্যাশিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। অর্থ্যাৎ রাষ্ট্রপরিচালনায় বেশিরভাগ মাননীয় মন্ত্রীর কথাবার্তা বরাবরই বেফাঁস, বেমানান ও মাঝেমধ্যে আমজনতার চেয়ে নিম্মমুখী ও বালখিল্য যে সেটা তাঁরাও টের পেয়ে চলছেন। যাদের বেশির ভাগই অর্থব, অনর্থক ও অযথা বোঝা হিসেবে দেশের শাসন ব্যবস্থার ওপর আর্বিভূত।
তাই একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমাদের মনে হয়েছে একটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় ফিরে গেলে দেশটা অন্তত একব্যক্তির দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ অন্তরকাড়া চাহনিতে সঠিকভাবে চলতে পারতো। রাষ্ট্র থেকে চরম সুবিধাভোগী কিছু লোকের বেঁফাস চিন্তাধারা, তোমামোদি, চামচামি থেকে বাঁচতে পারতো এই নিরীহ সচেতন জনতা।
সবিনয়ে সত্যাচারিতায় দেশবাসী নিরপেক্ষ হিসেবের খাতায় স্বাক্ষ্য দিতে চাই, একমাত্র এই দেশে আজো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন ছাড়া অন্যদের দেশপ্রেম, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা, ত্যাগ, শৃঙ্খলা যে মোটাদাগে প্রশ্নœবিদ্ধ তা বারবারই প্রমাণিত হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে অনেকে হয়তো খালেদা জিয়ার আলোচনা নিয়ে একটু নাক ছিঁটকে পড়তে পারেন, তবে ইতিহাসের পরম ও চিরন্তন সত্য যে খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার আশ্রয় নিয়েছেন সেটা তাঁর চিরবিরোধী শিবির এমনকি কোন নিরপেক্ষ, বিচক্ষন ও বিকেবপ্রসূত ব্যক্তি মনে করেননা। এ দেশে তখনো বিএনপি নামীয় কিছু চামচারা দেশটাকে নিজের পকেটে লুটেছেন; ঠিক যেমন আওয়ামী লীগের এ যুগেও।
কোন ব্যক্তির ব্যক্তিজীবনের সংঘটিত অনাচার, অসাধুতার খতিয়ানের পাতার তখনই টের পাওয়া যায় যখন ভাগ্যের কোন পরিহাসে, কোন সময়ে, দৈবক্রমে কেউ কোন গর্তে আটকা পড়েন। যেমন গর্তে পড়ার পর লক্ষীপুরের এক সাংসদের নানা র্কীতি (!) দেশবাসী ও বিশ্বাসীকে হতবাক করছে। তবে রা®ষ্ট্র ব্যবস্থার দুবর্লতার কারণে ওই এমপির কুর্কীতি নিয়ে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ খবর প্রকাশিত হলেও পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বলা হয়, ফাইল নেই। তাই ব্যবস্থা নেয়া কঠিন ব্যাপার। যেমন কঠিন ছিল বিগত জাতীয় নির্বাচনে রাজনীতির অর্বাচিন পাপুল ও তার ঘরনীকে সাংসদ পদে ঠেকানো।
বস্তুত রাষ্ট্রব্যবস্থাটাই অনেকদিন ধরে অনেকটাই কর্মচারী নির্ভরতায় ঢিলেঢালাভাবে চলছে। রাজার কথা প্রজাই বলে রাজাকে আনমনা স্বস্তি দিয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থার বারোটা বাজিয়ে সুবিধা ভাগিয়ে নিচ্ছেন। কর্মকর্তার সুবিধাবাদীতার কুটকৌশল নিরবে রাজা সইলেও প্রজাররা ঠিকই কষ্ট পায়।
সংসদের মাননীয় অনেক সাংসদ প্রয়োজনীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা, বিবৃতি কিংবা আইনের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আওয়াজ তোলেননা। যে কারণে টিআইবি ইতোপূর্বে সংসদকে দেউলিয়া বলতেও বাধ্য ছিলেন। অবশ্য সংসদের এখনতো বলার মতো বাক সোচ্চার ব্যক্তিই বা কই। পার্লামেন্টিরিয়ানখ্যাত সুরঞ্জিত, আবদুস সামাদ আজাদ, আবদুর রাজ্জাক, নাসিম, মীর্জা গোলাম হাফিজ, হুমায়ুন রশিদ চৌধুুরী, এম কে আনোয়ার, কিংবা সাকারা তো চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তাই মহামান্য রাষ্ট্রপতির মনের গহিনে লালিত স্বপ্নের চিৎকার মাঝে মাঝে ক্ষোভ আকারে অকপটে বেরিয়ে আসে। যা এই জনতার মনেরই কথা।
সাংসদরা এখন ব্যস্ত এলাকায় জমিদারী নিয়ে। তারা প্রশাসনে কর্তাগিরি নিয়ে দাপুটে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলার উচ্চ প্রশাসকদের সাথে এই কথা, সেই কথা বলেই আলাদা মজা ভোগ করেন। এটাই অনেকের কাছে সংসদীয় সংসদ। সাংসদরা সংসদীয় বিধি বিধানেরা অভ্যস্থ ও শুদ্ধচারি না হওয়ায় রাষ্ট্রের যে কোন আইনের সংশোধন, বিয়োজন, পরিমার্জনের একমাত্র মোক্ষমই হয়ে চলছে প্রজাতন্ত্রের কর্তারা। সাংসদের ব্যক্তিগত যোগ্যতার অসারতায় কর্তারাই রাষ্ট্র থেকে যাবতীয় সুবিধা লুফে নেয়ার প্রথাকে একতরফা কৌশলকে আইনে পরিণত করছেন।
২১ জুন দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে, “ করোনায় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণের চাপে সরকার। এদিন দৈনিক সমকালে প্রকাশিত হয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা মুখোমুখি। ” অর্থ্যাৎ করোনায় রাষ্ট্রের প্রজারা না খেয়ে, না পরে ও অসহায়ত্বে নির্বাসনে জীবন প্রদীপ নিভে যাক। তাতে কারো কিচ্ছুু যায় আসেনা। কিন্তু কর্মকর্তা বা কর্মচারীর জন্যে রাষ্ট্র একপায়ে দাঁড়িয়ে থাক। প্রজার পকেট ছিড়ে তার প্রণোদনা, বেতন ভাতা সবই পরিশোধ করতেই হবে রাষ্ট্রকে। যেমন পরিশোধ করতে হয়েছে বৈশাখী নামের ভাতাও। সে কারণে ১৯ জুন দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান খবর ছিল, করোনায় সুখে নেই বেসরকারী চাকুরেজীবিরা। অর্থ্যাৎ এ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজার হাতি মরলেও লাখ টাকা, আর বাঁচলেও।
সঙ্গতকারণে লাখ লাখ শহীদের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত স্বাধীন দেশটাই আজ যেন কিছু লোকের ভাগ বাটোয়ার স্থান। আর বাকীরা তামসা মাত্র।
লেখক, সম্পাদক দৈনিক দিশারী,নোয়াখালী প্রতিনিধি: দৈনিক শেয়ার বিজ;

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


সংবাদ পড়তে লাইক দিন ফেসবুক পেজে